সাহিত্য ও কবিতা

অমিত পর্ব – ১৩ |||| সুশীল কুমার পোদ্দার

অমিত-সুশীল-কুমার-পোদ্দার

অমিত পর্ব – ১৩ |||| সুশীল কুমার পোদ্দার

পূর্ব প্রকাশের পর…..

পড়ন্ত বিকেলের মায়াময় আকাশ থেকে এক ফালি রক্তিম আলো এসে পড়েছে ওদের বিছানায়। অমিত তাকিয়ে দেখে সে আলোক পায়ে চলা পথের মতো হয়ে মিশে গেছে অনন্ত আকাশে। মনে হয় আলোকিত এক ভুবন থেকে ওদের ডাক এসেছে। অমিত আত্ম-অনুশোচনায় দগ্ধ ওদের নির্মল চেহারা দেখে অভিভূত হয়ে পড়ে। অন্ধকারে নিমগ্ন চেতনা আলোকস্পর্শে স্নাত হয়ে ওদের মুখাবয়বে ছড়িয়ে দিয়েছে এক গভীর দীপ্তি। চোখের জলে ধুয়ে গেছে ওদের সকল গরল।

অমিত আবেগে ওদের হাতদুটো আরও শক্ত করে নিজের হাতের মধ্যে চেপে ধরে। ওরা অসহায় হয়ে অমিতের দিকে তাকিয়ে থাকে। গেরুয়া ফুঁপিয়ে উঠে অমিতকে জড়িয়ে ধরে। অমিত তুমি আমায় দেশে নিয়ে যাবে? জানি হয়তো মানুষ আমাকে ঘৃণা করবে। তবুও আমি দেশে যেতে চাই। একবার আমার জন্মভূমির কাছে ক্ষমা চেতে। যদি আমার নিজস্ব বলে কিছু থাকে, আমি সব বিলিয়ে দিতে চাই। তারপর যদি ফিরে আসি, আমি তোমারি সাথে চলে যাবো ভিন্ন কোন গ্রহে। আলখাল্লা গেরুয়ার হাত চেপে ধরে। দাদা আপনি যেখানে যাবেন আমি সেখানেই যাবো। অমিত আমাকে একা ছেড়ে দিও না। অমিত ওদের কথা শুনে হেসে ফেলে। কতো দিন সে এমন করে হাসেনি। সে হাসির সাথে পর্দায় ভেসে ওঠে নিউরো সাইকোলজিস্ট্রদের হাসি মাখা মুখ। ওরা ওদের সাফল্যে আনন্দিত। এতো অল্প সময়ে ওদের এই পরিবর্তন দেখে অভিভূত হয়ে পড়ে অমিত।

দ্বাদবিংশ শতকের চিকিৎসা বিজ্ঞানে কতো পরিবর্তন এসেছে ! একটা সময় ছিল রোগকে সনাক্ত করতে কতো শত পরীক্ষা করতে হতো। আর সেই পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে ডাক্তার ওষুধ দিতেন। কেউ ভালো হতো, কেউ আবার ঔষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, পরিমাণের কমবেশি সহ, বহুবিধ কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়তো। কখনো কখনো রোগীর বহুবিধ রোগের চিকিৎসা করতে যেয়ে ডাক্তার এমন ঔষুধ দিতেন যা একে অপরের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে রোগকে দিতো এক ভিন্ন জটিল মাত্রা। একই ঔষধের ভিন্ন ভিন্ন রোগীর উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া ,পরিবেশ ও বংশধারার প্রভাব সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতিকে তিন পায়ের উপর দাড় করে রেখেছিল। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান রোগ সনাক্তকরণ, রোগের পূর্বাভাষ, ঔষধ প্রয়োগের বিধান ও ব্যবস্থাপনাসহ সমস্ত ক্ষেত্রেই সনাতন ধারনা থেকে বেড়িয়ে এসেছে। আজ সনাতন মেডিসিনের স্থলে এসেছে জেনেটিক মেডিসিন যা personalized medicine এক বিশাল দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

আমাদের এই মানব শরীর এক রহস্যের এক ব্ল্যাক বক্স। এই শরীর গঠিত হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৭৫ ট্রিলিয়ন অতিশয় আণুবীক্ষণিক কোষ দ্বারা। সেই কোষ অভ্যন্তরে নিউক্লিয়াসের মাঝে রয়েছে বিশাল এক তথা ভাণ্ডার (encyclopedia) যাকে বলে জেনম। এই জেনম আর কিছুই নয় এ হচ্ছে DNA দিয়ে ঠাসা ঠাসি করে ভরে রাখা ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের সমাহার। প্রতিটি ক্রোমোজোমের মাঝে রয়েছে প্যাঁচানো সিঁড়ির মতো দেখতে যৌগ, যাকে আমরা বলি DNA । এই DNA গঠিত হয়েছে ৪ রকমের যৌগ (base) দিয়ে যাদের নাম দেওয়া হয়েছে A (Adenine), C (Cytosine), G (Guanine), T (thymine)। A, T এর সাথে আর C, G সাথে সখ্যতা ( base pair) করে গড়ে তুলেছে বিশাল এক sequence, যাকে আমরা বলি DNA Sequence। এই সেক্যুয়েন্সের যে অংশের মাঝে আছে কোন নিদিষ্ট প্রোটিন তৈরি করার নির্দেশ তাকেই বলা হয় জীন। এই জীনের মাঝেই আমাদের বেঁচে থাকার মুল উপাদান প্রোটিন তৈরি করার নির্দেশাবলী লিপিবদ্ধ রয়েছে, রয়েছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশাবলী যা মানুষকে করেছে প্রানীজগতে অনন্য । আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে জটিল কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে প্রায় প্রায় ২৩০০০ জীন যা তৈরি করেছে প্রায় তিন বিলিয়ন base pair যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ ফুট। ভাবতে অবাক লাগে এ ৫ ফুট দীর্ঘ এক বিচিত্র্য রাসায়নিক সিঁড়ি একটা চুলের দশমাংশের কম দৈর্ঘের ক্রোমোজোমের মাঝে কয়েলের মতো পেঁচিয়ে রয়েছে। আবার সেই পাঁচ যাতে খসে না যায় তার জন্যও রয়েছে প্রকৃতির সুরক্ষা। এমনি করে আমরা যদি সবগুলো DNA এ খুলে ফেলি তা হলে তা হবে ৯০ থেকে ১৩৫ ট্রিলিয়ন মিটার লম্বা এক তন্তু, যা আমাদের সমগ্র সৌরজগতের ব্যসের দ্বিগুণ।

জেনেটিক মেডিসিনের মুল ভিত্তি হল এই জীন সিকুয়েন্স। প্রতিটি মানুষের ৯৯% জীন সেক্যুয়েন্স প্রায় এক এবং অভিন্ন । শুধু ১% জীনই ভিন্ন যা মানুষকে একে অন্য থকে পৃথক করে। এর ভিন্নতায় কেউ হয় লম্বা, কেউ হয় খর্বকায়, কেউ হয় শ্বেতকায়া, কেউ কৃষ্ণকায়, কেউ পটল চেরা, কেউ চীনা জাপানিজ। এই ১% জীন যেমন আমাদের প্রকৃতি জগতের বৈচিত্র এনে দিয়েছে তেমনি এই ১% এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে ক্যানসার, হার্ট ডিসঅর্ডার, স্থূলতা, ডায়াবেটিক, পারকিন্সন রোগের মতো অসংখ্য রোগের আগমনী বার্তা …

চলবে…

 

অমিত পর্ব – ১৩ |||| সুশীল কুমার পোদ্দার ওয়াটারলু, কানাডা নিবাসী ।  ফলিত পদার্থ বিদ্যা ও ইলেকট্রনিক্স,  মাস্টার্স,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মাস্টার্স,   ইহিমে বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান। ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, পি, এইচ, ডি,   ইহিমে বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান। সিস্টেম ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মাস্টার্স,  ওয়াটারলু, বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা ।।

 

⇒এসএস/সিএ

সর্বশেষ সংবাদ

দেশ-বিদেশের টাটকা খবর আর অন্যান্য সংবাদপত্র পড়তে হলে CBNA24.com

সুন্দর সুন্দর ভিডিও দেখতে হলে প্লিজ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সংবাদটি শেয়ার করুন