ফিচার্ড সাহিত্য ও কবিতা

আমার কবিতা ।।।।।।  শীতল চট্টোপাধ্যায়

আমার কবিতা ।।।।।।  শীতল চট্টোপাধ্যায়


আমার কবিতা বুনো চারা গাছ
কথা বলে পাতা ছুঁলে ,
কবিতা আমার বকফুল গাছে
ফুলেরা দুলছে দুলে ।
আমার কবিতা চাতকেরা ব’লে
পার করে প্রতি রাত ,
কবিতা আমার কিরণ ছটায়
জেগে ওঠা প্রতি প্রাত ।
আমার কবিতা শিশুরা যখন
লুকোচুরি করে খেলা ,
কবিতা আমার ভেঁপু বাঁশি বেজে
ভরায় রথের মেলা ।
আমার কবিতা পালকের মতো
নরমে বালক মন ,
কবিতা আমার অবুঝ বালিকা
ছন্দয় প্রতিক্ষণ ।
আমার কবিতা বাঁশ ডগা ছুঁয়ে
রুপো গড়া গোল চাঁদ ,
কবিতা আমার কালবোশেখির
ঝড় এক উন্মাদ ।
আমার কবিতা টোটোর চালক
সিটে বসা এক মেয়ে ,
কবিতা আমার ছুটে চলা ট্রেন
মহিলাতে গতি পেয়ে ।
কবিতা আমার ধান ভরা মাঠ
ইঁদুরের ধান চুরি ,
আমার কবিতা জোনাকি বাউল
মাঠে করে ঘোরাঘুরি ।
আমার কবিতা সবুজে-সবুজে
ঢেউহীন খালে পানা ,
কবিতা আমার জলে-জল পোকা
পায়ে আল্পনা টানা ।
আমার কবিতা লণ্ঠন আলো
গরুর গাড়িতে ঝোলে ,
কবিতা আমার রাতে গাড়োয়ান
একা যায় দূরে চলে ।
আমার কবিতা বাঁকুড়ার বনে
কাঁচা শালপাতা তোলা ,
কবিতা আমার আদিবাসীদের
মনেতে বনের দোলা ।
আমার কবিতা ভিক্ষায় পাওয়া
আলোয়-আঁধারে ঘুরে ,
কবিতা আমার,আমি কবিতার
মিলেছি জীবন পুরে ।

সাদা পলাশ
ফুল নয়,
পলাশের শুকনো ডাল খোঁজে
বাসন্তী মুর্মু ।
অনায়াসে পায়ে-পায়ে মাড়িয়ে যায়
পড়ে থাকা পলাশদের ,
যত্ন করে তুলে নেয় শুকনো ডালা দেখতে পেলেই।
পড়ন্ত দুপুরে পলাশ ডালের বোঝা মাথায়
বাসন্তী ফেরে
মাটির ছোট কুটীরের বড় শান্তিতে ।
মাটির দুয়ারে পলাশ ডালার জ্বালে উনুন জ্বালিয়ে
মাটির হাঁড়িতে জল আর চাল বসায় ।
বাড়ির মানুষটা সারাদিন কোদাল চালিয়ে
সন্ধেবেলা ফিরেই বলবে –
এ বাসন্তী , চাল কুঁড়িতে সাদা পলাশ ফুটাইছিস তো ?
বাসন্তী হাসতে-হাসতে
কাঁচা শালপাতার থালায় ধরে দেয়
একথালা গরম-গরম সাদা পলাশ ।

সেদিন বসন্ত ছিল

বসন্তেই উড়ে আসে
মনকেমন করানোর পাখিগুলো ।
ওদের ডাকেই ফিরে আসে
অনেক বছর আগের সেই
বসন্ত দুপুর ।
দখিনের বাতাস ছুঁলেই মনে পড়ে
ক’যুগ আগের সেই বাতাসকে ।
বাড়ি কম , মানুষ কম , গাড়ি কমের
ধোঁয়া বিহীন স্বচ্ছতায় –
বসন্ত তার পূর্ণতা পেতো
এই বাংলার প্রকৃতিময়ে ।
একটি মন
এতো বিভিন্নতায় জড়ায়নি  সেদিন ,
নোনা লাগেনি মনের সুদৃঢ় গাঁথনিতে ,
উইপোকা ধরেনি নিশ্ছিদ্র মননেও ।
সেদিন বসন্ত ছিল
হৃদয়ের আদরে, প্রাণের আবেগে, অপলক
চাওয়া – চায়িতে ।
গাছের কৃষ্ণচূড়া ফুল থাকত মনের শাখায় ,
দৃষ্টি ডালে ধরে থাকত পলাশ ,
ভালোলাগায় -ভালোবাসার  সেই…….
টুপ টাপ ।

ঠিকানা – জগদ্দল, উত্তর ২৪পরগণা
পশ্চিমবঙ্গ, ভারতবর্ষ

সংবাদটি শেয়ার করুন