ফিচার্ড সাহিত্য ও কবিতা

নির্বাসন ।।।। পুলক বড়ুয়া 

নির্বাসন ।।।। পুলক বড়ুয়া


বদ্বীপ থেকে তুমি পালিয়ে এলে
তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ ফেলে গেলে
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল ফেলে গেলে
আপন মানচিত্র ছেড়ে অপর মানচিত্রে গেলে
পলিদ্বীপ ফেলে তুমি পালিয়ে গেলে
 
ফেলে গেলে হরিৎ, ফেলে গেলে মৌসুমী ছয়—চৈত্র সংক্রান্তি, বর্ষ হরণ, বর্ষ বরণ, ১লা বৈশাখ, বৈসাবি, প্রথম বোশেখ—মুড়ি-মোয়া-নাড়ু, নিদাঘের খরা পার, মধুমাস ছোঁয়া, আষাঢ়ে গল্প, শাঙন গগন, তালপাকা গরম উজিয়ে শেষ কার্তিকের শীতের আসন্ন আমেজ- আগমনী, পৌষের পিঠেপুলি-নবান্ন ভোর, সন্ধ্যার হিমেল অথবা শীতের সকাল, ১লা ফাল্গুন, ৮ই ফাল্গুন, অনেক সুদূর চৈত্রের কাঠফাটা রোদ্দুর—তুমি মাথাকুটেও পাবে না, তুমি মাথা ফাটিয়েও পাবে না, কিছুতে ছোঁবে না, আশ মিটবে না, সাধ মিটবে না, সাধ্য মিলবে না—যতই ছোটাছুটি কর, সাধনা কর, আরাধনা কর—নিষ্ফলা কেটে যাবে—এই পথ চাওয়া, শূন্য রথ, পিপাসিত সমস্ত পথ
 
বৃষ্টির ফোঁটা, টিনের চালের নিশির শিশির নির্মাণ তুমি 
শুনবে না, কিংবা, ধানখেতের প্রসারিত হাওয়া ডাকবে না—ডোবা-পুকুর-দীঘি-বিল, সুন্দরী খাল, ইছামতী, কর্ণফুলী বাঁক, খড়খুটো ভেসে যাওয়া বেনোজল : ক্যামন করে খলবল : 
 
বিস্মৃত হওয়ার নয় :
 
ঠাণ্ডা, তুষার, বরফ—জমাটি-জম্পেশ—প্রত্নসত্তা—
কী করে বাঁচিয়ে রেখেছে—তোমার—
আত্মবিনাশী-আত্মপরবাসী-আত্ননির্বাসন 
 
এক মায়াবী শিলার নিচে  
একটি অপুস্পক পাঁজরের নিচে 
একটি নপুংশক পাষাণের নিচে  
একপ্রকার অন্ধকার জগদ্দল পাথরের নিচে
 
একটি সোনালি-সংজ্ঞাহীন তৃণ
সংবাদটি শেয়ার করুন