সাহিত্য ও কবিতা

নিষিদ্ধ ঋণ |||| পুলক বড়ুয়া


নিষিদ্ধ ঋণ |||| পুলক বড়ুয়া


প্রিয়তমা
আমাকে ক্ষমা কর
আমি তোমার আলোয় এবং হাওয়ায় ছিলাম না
কদিন আমরা একই সাথে নিঃশ্বাস নিতে পারিনি
কোথাও আমরা শরিক হইনি
কোথাও আমরা সারথী হইনি
কোথাও আমরা সোয়ারী হইনি

আমরা মুখোমুখি বসিনি নাতিদীর্ঘদিন
কোনো দৃশ্যের দিকে চোখ রাখিনি
একসঙ্গে কান পাতিনি
আমরা মগ্ন ছিলাম ত্রিলোকে
আমরা খুঁজিনি কেউ কাউকে ইহলোকে
আমরা ছিলাম মনোলোকে
আমরা শূন্যতার মাঝে বিলীন হয়ে গিয়েছিলাম
আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান-সহবাস করেছিলাম
অঙ্গে অঙ্গে রঙ্গ ভঙ্গ দিয়েছিলাম
অঙ্গে অঙ্গে রণ ভঙ্গ দিয়েছিলাম
অঙ্গে অঙ্গে রস ভঙ্গ দিয়েছিলাম

প্রিয়তমা
তাকিয়ে দেখ, দেখতে দেখতে
আমরা বৃষ্টির দিন পাড়ি দিয়ে এলাম
শরতের নীলাকাশের নিচে
নদী তীরে কাশবনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে
ভাসছে উপচে পড়ছে উড়ছে
পেঁজা তুলোর মতো সাদা মেঘের চ্ছিন্নভেলা
আমরা ষড়ঋতুর দ্বিতীয় সোপান বেয়ে
নেয়ে উঠলাম

বলো, প্রিয়তমা, বলো
আমাদের শরীরে কী বিদ্যুৎ শিহরণ
খেলে গেল, বলো
শিউলি কুড়ানো কোনো ভোর
সোনালি সূর্যের নিচে রোদ্দুর
তালপাকা সোনাঝরা মিঠেকড়া গরমের
গন্ধমাখা দিন

প্রিয়তমা
আমাদের গালে বুকে হাতে ঠোঁটে
এই দেখ, কী সুন্দর বিদ্ধ—
মৃণালের মতো আঁজলা ভর্তি
শারদীয়া প্রীতি !

নিষিদ্ধ হয়েছে কয়েকটি দিনই
কবুল করছি, পেয়েছি নিষিদ্ধ ঋণই !

 


সংবাদটি শেয়ার করুন