কয়েক দশক পর ডিএনএ প্রযুক্তিতে শনাক্ত নিউ ব্রান্সউইকের রহস্যময় নারী
কয়েক দশক ধরে পরিচয়হীন থাকা এক নারীর দেহাবশেষ অত্যাধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করেছে কানাডার পুলিশ। ওই নারীর নাম ব্রেন্ডা মেরি লেব্ল্যাঙ্ক। ১৯৬৩ সালে জন্ম নেওয়া ব্রেন্ডা নিউ ব্রান্সউইকের বাসিন্দা ছিলেন।
২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর অন্টারিওর নায়াগ্রা ফলসের ৭০৮১ স্ট্যানলি অ্যাভিনিউয়ের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি ভাঙার সময় তাঁর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ফরেনসিক ও নৃতাত্ত্বিক পরীক্ষায় জানা যায়, দেহাবশেষটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর এবং সম্ভবত ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সেখানে ছিল।
বাড়িটি ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকে প্রায় ২০১৮ সাল পর্যন্ত একাধিক ভাড়াটের আবাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায় এবং সেখানে অননুমোদিতভাবে মানুষের যাতায়াত ছিল।
প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৫ সালে তদন্তকারীরা ‘ইনভেস্টিগেটিভ জেনেটিক জেনিয়োলজি’ প্রযুক্তির সহায়তা নেন। ডিএনএ বিশ্লেষণের সঙ্গে বংশতালিকাভিত্তিক গবেষণা সমন্বয় করে শেষ পর্যন্ত ব্রেন্ডার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এই কাজে নায়াগ্রা আঞ্চলিক পুলিশের সঙ্গে টরন্টো পুলিশ, অন্টারিও ফরেনসিক প্যাথলজি সার্ভিস এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক ওথ্রাম ল্যাবরেটরিজ কাজ করেছে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ব্রেন্ডা নব্বইয়ের দশকে নায়াগ্রা ফলস ও সেন্ট ক্যাথারিনসে বসবাস করতেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩০-এর কোঠায়। তবে স্ট্যানলি অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ির সঙ্গে তাঁর কী সম্পর্ক ছিল এবং কীভাবে তাঁর দেহাবশেষ সেখানে পৌঁছাল—তা এখনো রহস্য।
ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। নায়াগ্রা পুলিশ এখন জানতে চাইছে—ব্রেন্ডাকে কে হত্যা করেছিল?
নব্বইয়ের দশকে ব্রেন্ডাকে চিনতেন অথবা তাঁর বন্ধু, সহযোগী, অবস্থান ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন—এমন ব্যক্তিদের ২৮৯-২৪৮-১০৫৮ নম্বরে নায়াগ্রা আঞ্চলিক পুলিশের হোমিসাইড ইউনিটে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: Niagara Regional Police Service, Global News



