কানাডার সংবাদ

প্রতিবন্ধী রমা রানী এবং তার অন্ধ বড় তিন বোনের জীবন ও সংগ্রাম !

প্রতিবন্ধী রমা রানী

বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের করুণ কাহিনী

প্রতিবন্ধী রমা রানী এবং তার অন্ধ বড় তিন বোনের জীবন ও সংগ্রাম !

ভানু প্রতাপ বনিক নরসিন্দি পৌরসভা এবং পলাশ থানার, ঘাগড়া এলাকার একজন নাম করা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন । কয়েক বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে অর্থকষ্টের কারনে বিনা চিকিৎসায় করুণভাবে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর এলাকাবাসী একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর সমাধীস্থলে স্মৃতিফলক বানিয়েছেন  কিন্তু নরসিংদীর পলাশ থানার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ঘাগড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ভানু প্রতাপের ছেলে মেয়েদের কেউ খবর রাখেননি, এমন কি সরকারও কোনধরনের সহযোগিতা করেন নি। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সব ক’টি সন্তানই অসুস্থ এবং কর্মউপার্জনহীন।  তাঁর  মেয়ে কানন ((৪৩) মলিনা (৪১), মিরা (৩৯), রমা  এবং দুই ছেলে শিবু (৫৭) খোকন। বড় মেয়ে কানন, দ্বিতীয় মেয়ে মলিনা ও তৃতীয় মেয়ে মিরা জন্মান্ধ। অপর  মেয়ে  রমাও (৩৫) দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে পঙ্গু হয়ে অন্ধ তিন বোনের সঙ্গে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছেন এবং এখন এই অন্ধ তিন বোনের সেই হচ্ছে  একমাত্র আশ্রয়। রমা রানীই তাদের খাওয়ানো থেকে শুরু করে, হাত ধরে রাস্তা পারসহ সব কিছু করেন।

অন্ধ তিন বোন আর এক পঙ্গু বোনের দুই ভাই শিবু বণিক আর খোকন বণিক। এদের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে শিবু বণিকেরও বসন্ত রোগে এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। রমা রানী প্রতিবন্ধী কিন্তু চোখে দেখতে পান- সেই তাদের সব কিছু করে দেন।

অন্ধ তিন বোন ও প্রতিবন্ধী বোনের ভাই শিবু বণিক এবং খোকন বণিক বড় ভাই শিবু কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এতদিন নিজে উপার্জন করে তাদের দেখাশুনা করে এসেছি কিন্ত এখন আমি নিজেই এক চোখ অন্ধ হয়ে বসে আছি। বোনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের কোন অর্থ-সম্পদ নেই। জায়গা সম্পদ বলতে শুধু ঘরের ভিটেটাই একমাত্র সম্বল। আর থাকার ঘরও নেই। এক ঘরেই তারা গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। এদিকে বোনদের চিকিৎসা তো দুরের কথা তিনবেলা তাদের খাওয়াতেও পারি না- আমিও অচল। এ জন্য কোন কাজকর্ম করতে পারছিনা। আপনাদের কাছে আকুল আবেদন আমাদের জন্য কিছু করেন, লোকাল চেয়ারম্যান অথবা সবাই যেন এগিয়ে এসে আমাদের বাঁচতে সাহায্য করেন।

REO এবং তার পার্টনার অর্গানাইজেশন BMRA, টরন্টো কানাডা সম্প্রতি গিয়েছিলেন নরসিংদীর ঘাগড়া গ্রামের এই অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

রিও প্রতিনিধিদের সাথে নরসিংদীর পৌর মেয়র শফিকুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ জাবেদ-এর সাথে কথা হয়েছে এ সময় স্থানীয় কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। মেয়র অনেক অমায়িক এবং আন্তরিক করোনার মাঝে তারা এই পরিবারটিকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি এই পরিবারটিকে  সরকারী সহযোগিতায় স্থায়ী ভাবে সাহায্য করার জন্য আশ্বাস প্রদান করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি কেন মক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা পাচ্ছেন না সেটা বোধগম্য নয়।উপজেলা চেয়ারম্যান জাভেদ সাহেব তাদের করোনার সময়ে কিছু সাহায্য সহযোগিতা করেছেন এবং তিনি পরিবারটি যাতে অন্যান্য সযোগ সুবিধা পান সে ব্যাপারে তিনি এবং মেয়র সাহেব দেখবেন এবং তাদের সরকারী ব্যবস্থাপনার কয়েকটা কার্ড প্রদান করার প্রতিশ্রুতি ব্যাক্ত করেন।

REO- ডাংগা ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান সাবেরুল হাই সাহেবের সাথেও দেখা করেছেন। সাবেরুল হাই সাহেব তরুন একজন আসাধারণ প্রাণচঞ্চল মানুষ। তিনি এই অসহায় পরিবারটির  মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কাগজ পত্রগুলো দেখবেন এবং তাদের সাহায্যের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ।

এই মহতী কাজের জন্য  রিওর পক্ষ থেকে  পার্টনার অর্গানাইজেশন BMRA-এর কালিদাস পাল, টরন্টো থেকে  প্রাক্তন অধ্যাপক কল্যাণ সোম, অংশুমান চৌধুরী (অংশু), টুলটুল রাউত,  তাপস পাল, মন্ট্রিয়ল থেকে শ্যামল দত্ত, কৃষ্ণপদ সেন, বিজয় ভুষণ চৌধূরীসহ BMRA-এর প্রত্যেক সদস্য যারা রিও’র সাথে দীর্ঘদিন ধরে  বিভিন্ন সেবামূলক কাজে  সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। ‘বলো কি তোমার ক্ষতি…দুর্বল মানুষ যদি পার হয় তোমাকে ধরে’ … এই শ্লোগানকে সামনে রেখে BMRA অসহায় মানুষের মাঝে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তাদের মতো আরো অনেককেই এগিয়ে আসার আহবান জানান।

REO এবং BMRAর পক্ষ থেকে নগদ ১৫,০০০টাকা এবং অন্ধ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য শাড়িসহ বাচ্চাদের জন্য উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।  তাছাড়া ড. বিশ্বনাথ সরকার, প্রাক্তন ক্যাবিনেট সেক্রেটারী, লায়ন্সসক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্টিক 315A1  উপস্থিত থেকে অসহায় মানুষ এবং বাচ্চাদের নগদ অর্থসহ বাচ্চাদের  উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। ভবিষ্যতে REO এবং BMRA অন্য একটা প্রজেক্টে মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশা রাখেন। রিওর পারভিন আক্তার উপস্থিত থেকে শাড়ি এবং অনান্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত  ছিলেন নরসিংদী টিভি সাংবাদিক এবং সেচ্ছাসেবক পারভেজ আহম্মেদ, যিনি প্রথম এই অসহায় পরিবারটিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরী করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে পারভেজ আহম্মেদকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

এছাড়াও REO এবং পার্টনার অর্গানাইজেশন BMRA বন্যার্ত ও দুর্গতদের মাঝে দিনাজপুর, কুমিল্লা, নাসিরনগর, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও গোপালজঞ্জসহ বিভিন্ন জায়াগায় দুস্থ মানুষের জন্য তাদের ভালোবাসার উপহারসহ কাজ করেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের কাছে সবিনয় অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে  ‘আপনাদের হাতটা একটু বাড়িয়ে দিলে হয়ত আপনার কোন ক্ষতি নেই- কিন্তু একজনের জীবন জীবিকার হয়ত আমুল পরিবর্তন হয়ে যাবে। REO & BMRA মানুষের কথা, মানুষের জন্য কাজ করে।’
সিএ/এসএস

সর্বশেষ সংবাদ

দেশ-বিদেশের টাটকা খবর আর অন্যান্য সংবাদপত্র পড়তে হলে CBNA24.com

সুন্দর সুন্দর ভিডিও দেখতে হলে প্লিজ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আপনার মতামত দিন