দেশের সংবাদ ফিচার্ড

চরম ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড

গড়ে ওঠা শতাধিক ভুঁইফোঁড় সংগঠনের কর্মকাণ্ডে

চরম ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড

  • ধান্দাবাজ ও টাউট বাটপাড়ের বিরুদ্ধে আ.লীগের অবস্থান -আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
  • ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোকে কঠোরভাবে দমন করা হবে -লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য, আওয়ামী লীগ
  • ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার করে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই -আব্দুর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য, আওয়ামী লীগ

‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার করে গড়ে ওঠা শতাধিক ভুঁইফোঁড় সংগঠনের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু করাই আওয়ামী লীগের বড় চ্যালেঞ্জ। মূলত দলটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা, এমপি-মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠন। যদিও অল্পসময়ের মধ্যেই এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের কথা ভাবছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। এই দলের নেতৃত্বে উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ। ফলে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে বা আওয়ামী লীগের ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার করে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করার সুযোগ নেই। এসব ভুঁইফোঁড় সংগঠনের ধান্দাবাজ, টাউট, বাটপাড় ও সুবিধাবাজদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান।

সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতার দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগের ‘লীগ’ শব্দ ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য কিংবা ‘মুক্তিযোদ্ধা’ নাম ব্যবহার করে আট শতাধিক ভুঁইফোঁড় সংগঠন গড়ে উঠেছে। এদের অধিকাংশ সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয় নেই। নেই নিজস্ব কার্যক্রম। দলের প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা, এমপি-মন্ত্রীদের পৃষ্ঠপোষকতা ও ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য, কমিটি বাণিজ্য ও ক্ষমতার সিন্ডিকেট তৈরি এবং অপব্যবহার করছে। ‘অনুমোদন’বিহীন এসব রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা নানা সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। যা নিয়ে বারবার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের। অনুমোদনহীন সংগঠনগুলো হলো— জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী সংস্কৃতি লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরষিদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বাংলাদেশ আওয়ামী তৃণমূল লীগ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবষেণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, আমরা মুজিব সেনা, আমরা মুজিব হবো, চেতনায় মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম, ডিজিটাল ছাত্রলীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ, ঠিকানা বাংলাদেশ, জনতার প্রত্যাশা, রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, জননেত্রী পরষিদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ, আমরা নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট, তৃণমূল লীগ, একুশে আগস্ট ঘাতক নির্মূল কমিটি ও আওয়ামী প্রচার লীগ। তবে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে এ ধরনের কোনো সংগঠনের ভিত্তি নেই।

আ.লীগ সূত্র মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাংলাদেশ চাকরিজীবী লীগ’ নামে অনুমোদনহীন একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হওয়ায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের কেন্দ্রীয় অনুমোদন না থাকায় সংগঠনটির কথিত সভাপতি হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক উপকমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলটির জন্য এসব ‘অনুমোদনহীন সংগঠন’ গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব নামসর্বস্ব সংগঠনের পেছনে ‘লীগ’ শব্দ ব্যবহার ছাড়াও বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিভিন্ন সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করছেন উদ্যোক্তারা। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের প্রধান টার্গেট। দিবসকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে দাওয়াত দেয়া হয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র, জুনিয়র ও মুখ চেনা নেতাদের। এরপর নেতাদের দিয়ে শুরু করে বিভিন্ন দেন-দরবার, তদবির, লবিংয়ের কাজ। সেই সংগঠনগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য আওয়ামী লীগ বারবার হুঁশিয়ারি দিলেও দমন করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, ভুঁইফোঁড় গঠনের ধান্দাবাজ, টাউট, বাটপার ও সুবিধাবাজদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান। এই ধরনের কার্যক্রমের সাথে যে-ই যুক্ত হবেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। এই দলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অপতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। সেই দলের নাম ভাঙিয়ে বা আওয়ামী লীগের লীগ শব্দ ব্যবহার করে অন্যায়, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও  ক্ষমতার অপব্যবহার করার সুযোগ নেই। ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য যারাই লীগ শব্দ ব্যবহার করে সংগঠন গড়ে তুলেছেন, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। এদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং কিছুদিনের মধ্যেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান আমার সংবাদকে বলেন, অনুমোদনহীন অসত্য ও ভুয়া ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোকে আওয়ামী লীগ কঠোরভাবে দমন করবে। তিনি আরও বলেন, ভুয়া ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলোর নেতারা সব সময় চান নিজেদের প্রচার-প্রচারণার মধ্যে রাখতে। আর এদের ফাঁদে আমাদের দলের অনেক নেতা পা দিচ্ছেন। এসব বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এসব ভুয়া ভুঁইফোঁড় সংগঠনকে কোনোভাবেই আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। ভুঁইফোঁড় সংগঠনগুলো আমাদের শত্রু, দলের শত্রু, উন্নয়নের শত্রু। তারা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিতর্কিত করছেন।-আমারসংবাদ

 


সর্বশেষ সংবাদ

দেশ-বিদেশের টাটকা খবর আর অন্যান্য সংবাদপত্র পড়তে হলে CBNA24.com

সুন্দর সুন্দর ভিডিও দেখতে হলে প্লিজ আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আমাদের ফেসবুক পেজ   https://www.facebook.com/deshdiganta.cbna24 লাইক দিন এবং অভিমত জানান

 

সংবাদটি শেয়ার করুন