কানাডার সংবাদ ফিচার্ড

অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে  বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন

অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে  বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন

১৪ এপ্রিল ২০২৪ তারিখ কানাডার অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উদযাপন করে। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিলনায়তনে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ এবং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনের কর্মকর্তাগণ পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ উপলক্ষে ঢাকা থেকে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন। অত:পর মান্যবর হাইকমিশনার তাঁর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

মান্যবর হাইকমিশনার ড. খলিলুর রহমান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, পহেলা বৈশাখ একটি সার্বজনীন লোক উৎসব হিসেবে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে UNESCO কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা মানব জাতির অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বাংলা নববর্ষ উদযাপনে নতুনমাত্রা যোগ করেছে বলে মান্যবর হাইকমিশনার উল্লেখ করেন। বহুত্ববাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রচার করার মাধ্যমে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি আবহ গড়ে তুলতে অবদান রাখে যেখানে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতি নির্বিশেষে সকলে সহাবস্থান করতে পারে। মান্যবর হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, পহেলা বৈশাখ ধর্মীয় উগ্রবাদ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। এই উৎসব আমাদের সমাজের বৈচিত্র্যকে আলিঙ্গন করে বিভক্তির উপর ঐক্য ও সহনশীলতার জয়ের সুস্পষ্ট বার্তা পাঠায়। এই উৎসব একটি অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে যেখানে বিভিন্ন মতের মানুষ ঐতিহ্য উদযাপন করতে একত্রিত হয়। এটি পরস্পর সহমর্মিতা জাগায় যা ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান রোধে অপরিহার্য। বিশ্বব্যাপী পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণে বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের মধ্যে স্বজাত্যবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায় ও উজ্জীবিত হয় বলে মান্যবর হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

মান্যবর হাইকমিশনারের বক্তব্য শেষে উপস্থিত সকলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। অতঃপর উপস্থিত সকলে বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

মান্যবর হাইকমিশনার কর্তৃক উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

 

এসএস/সিএ

সংবাদটি শেয়ার করুন